ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ
২২ দিন ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল বাজারে সংকট তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে কিছুটা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ ইরানি তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে পুনরায় হামলা
ভারতের তিনটি রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার অন্যান্য বড় তেল আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুত কম হওয়ায় দেশটি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছে। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিগুলোও আইনি ও কারিগরি দিক যাচাই করে ইরানি তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: নওরোজে ইরানকে সমর্থনের বার্তা পুতিনের
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় জানিয়েছে, ২০ মার্চ বা তার আগে জাহাজে তোলা ইরানি তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এই সুবিধার আওতায় থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সময়ে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে। এনার্জি আসপেক্টসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মার্চে এই পরিমাণ প্রায় ১৩–১৪ কোটি ব্যারেল হিসেবে প্রাক্কলন করা হয়েছিল।
এশিয়ার দেশগুলো মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। চলতি মাসে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিধির কারণে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীন প্রধান গ্রাহক হিসেবে এগিয়ে আসে। কেপলারের তথ্যমতে, গত বছর চীনের শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। যদিও অধিকাংশ দেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, চীন বড় পরিমাণে এ তেল কিনে আনে।
অর্থপরিশোধের প্রক্রিয়া এবং তেলের একটি বড় অংশের অবস্থান পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে থাকায় কিছু জটিলতা বিদ্যমান। অতীতে সরাসরি ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানি থেকে তেল কেনা হলে চুক্তির কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ২০১৮ সালের পর থেকে ইরানি তেলের একটি বড় অংশই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে আসছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে, তবে সবাই দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।’
২০১৮ সালের আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।





