সংলাপ চায় ইরান, তবে যুদ্ধবিরতিতে কঠোর শর্ত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪২ পূর্বাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও চলমান সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। পৃথক বার্তায় তারা একদিকে আলোচনার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরলেও, অন্যদিকে কার্যকর সংলাপের পথে থাকা বাধা ও যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো স্পষ্ট করেছেন।

‘সংলাপ চাই, কিন্তু বাস্তব বাধা আছে’

আরও পড়ুন: মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান সবসময়ই আলোচনা ও সমঝোতার পথকে সমর্থন করে এসেছে। তবে তার মতে, অর্থবহ সংলাপের ক্ষেত্রে তিনটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে— প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা এবং ধারাবাহিক হুমকি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ববাসী এখন কথার সঙ্গে কাজের অমিল ও দ্বিচারিতা প্রত্যক্ষ করছে, যা পারস্পরিক আস্থার সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১

যুদ্ধবিরতিতে শর্তের প্রশ্ন

অন্যদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, একটি “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি” তখনই অর্থবহ হবে, যখন বাস্তব পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে।

তার ভাষায়, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না। এমন পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সম্ভাবনাও নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

চাপ দিয়ে ছাড় আদায় সম্ভব নয়

গালিবাফ আরও বলেন, সামরিক অভিযান বা বাহ্যিক চাপ দিয়ে ইরানের কাছ থেকে কোনো ধরনের ছাড় আদায় করা সম্ভব হবে না। তার মতে, ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি দেওয়াই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইরানের কাছে একটি সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।