কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৯ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিউবার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে প্রায় দেড় শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ৬ দশমিক ১ মাত্রার এ ভূমিকম্পের কম্পন শুধু কিউবাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিছু এলাকাতেও।

স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কিউবার মানতুয়া শহর থেকে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে। রাজধানী হাভানাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এ ধরনের ভূমিকম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে তুলনামূলক বিরল। কারণ এটি কোনো টেকটোনিক প্লেটের সীমানায় নয়, বরং প্লেটের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে। ফলে ভূমিকম্পটির বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ইউএসজিএসের ভূকম্পবিদ পল আর্ল জানিয়েছেন, ১৮৮০ সালের পর থেকে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রের ৩২২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এত শক্তিশালী কম্পনের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। ওই বছর কিউবার সান ক্রিস্টোবাল এলাকায় ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে নাজুক হয়ে পড়া কিউবার অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

পশ্চিম কিউবার পিনার দেল রিও এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এত তীব্র কম্পন তারা আগে অনুভব করেননি।

কিউবার পাশাপাশি মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটন শহর কানকুন, প্লায়া দেল কারমেন ও তুলুমেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউকাতান ও কুইন্টানা রু রাজ্যে সতর্কতামূলক জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ইউএসজিএস। তবে ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা।