যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সময় কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে: ইরান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫১ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:০১ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানে কিছু কৌশলগত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ১২ দিনের যুদ্ধের পর উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।

তালাই-নিক বলেন, গত এক বছরে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু কৌশলগত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সামরিক সামগ্রীর উৎপাদন আগের সময়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত

তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানে তৈরি অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি একই সময়ে সেগুলোর উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র দাবি করেন, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখনকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সঙ্গে সে সময়ের সক্ষমতার তুলনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তালাই-নিক আরও বলেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার সময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিই দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের একাধিক কৌশলগত ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।

ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তালাই-নিক। তার দাবি, দেশটিতে তৈরি কিছু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন খরচ বিদেশি সমমানের পণ্যের তুলনায় অনেক কম।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রযুক্তির ব্যবহার, জ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন এবং দেশজুড়ে বিস্তৃত উৎপাদন নেটওয়ার্কের কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে এই অর্থনৈতিক দক্ষতা তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পরে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধ এবং দুই দেশের বিরোধ নিরসনে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। তবে কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার ঘটনায় আবারও ইরানের পাল্টা হামলা শুরু হয়।

সূত্র: প্রেস টিভি