সুখী-সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে : মির্জা ফখরুল

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী একটি নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে টেলিফোনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যাশা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবেন এবং সুস্থ পরিবেশে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশিরা একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি, আমি প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।’

আরও পড়ুন: তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা জাতীয় স্বার্থমুখী হতে হবে: তথ্য মন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করে দেশবাসী, গণমাধ্যম এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দীর্ঘ সংগ্রামে যাদের অধিকার আদায়ের পাশে ছিলেন, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তার নেতৃত্বে ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’-এর গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কী অনুভূতি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক কিছু মিস করব। যা স্মরণ করলে আমি আবেগকে ধরে রাখতে পারি নাই।’ তিনি দেশবাসীর জন্য দোয়া করে সবাইকে সুস্থ, নিরাপদ ও ভালো থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই দিনে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই মহীয়সী নারী নেত্রীর সান্নিধ্য ও স্নেহ পেয়েছেন তিনি। তাকে স্মরণ করলে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন বলেও জানান বিএনপির এই নেতা। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজের ভোট দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দুপুর ২টায় সংসদে গিয়ে তিনি ভোট দেবেন।

গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় যোগ দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এটিই ছিল সংসদীয় দলের সঙ্গে তার শেষ সভা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। এর আগে ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল।

বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করা মির্জা ফখরুল ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে সেখানে যাচ্ছেন। মির্জা ফখরুলও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন।