সময় হিসেবে বেছে নিতে পারে নির্বাচন

ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তার ধারণা, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে বেছে নিতে পারে তেহরান।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জোয়ে হুড। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার নজির ইরানের রয়েছে। জিমি কার্টারের সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের আমলেও নির্বাচনের সময় ইরান এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

জোয়ে হুডের মতে, নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময়টিকে ইরান কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে মার্কিন ভোটারদের ওপর চাপ তৈরি করা তেহরানের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। কারণ মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দামের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না উল্লেখ করে সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে আলোচনা শুরু করতে হলে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী কোনো উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যদি উল্লেখযোগ্য বা চমকপ্রদ কোনো উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে না পারে, তাহলে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কার্যকারিতা খুব বেশি হবে না।

সমাধানের সম্ভাব্য পথ হিসেবে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জোয়ে হুড। তার মতে, এসব দেশ যদি তাদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে অবস্থান নেয় এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দিলে জাহাজে হামলার আশঙ্কা কমবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রয়োজনীয়তাও থাকবে না।