হুথিদের অবস্থানে ইয়েমেনি বিমান বাহিনীর হামলা
ইয়েমেনের মোখা ও ধুবাব এলাকায় হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমান বাহিনী। শুক্রবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি জানান, মোখা বন্দরের কাছে এবং শহরের জায়েদ আল-খারজ মার্কেটের আশপাশে হুথিদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল
তিনি বলেন, বিমান হামলায় হুথিদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন হুথি সদস্য নিহত হয়েছে।
মোখায় পানি প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পাশেও হুথি সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান আল-নুজাইলি।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ
এ ছাড়া মোখা-ধুবাব সড়কের একটি পশু কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রেও হুথিদের যানবাহন ও যোদ্ধাদের জড়ো হওয়ার স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই স্থানটি মোখা শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আরও জানান, মোখার উত্তর রিং রোডে এক সামরিক নেতার সাবেক সদর দপ্তরেও হুথি সদস্যদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে সেখানে থাকা হুথি সদস্যদেরও নির্মূল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব হামলায় মোট কতজন নিহত বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আবারও বড় সংঘাতের আশঙ্কা
ইয়েমেনে ২০২২ সাল থেকে তুলনামূলকভাবে সংঘাত কম ছিল। এর আগে প্রায় ১২ বছর ধরে দেশটির সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে যুদ্ধ চলেছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুথিদের এই সংঘাতের সূত্রপাত আরও আগে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেওয়ার পর যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
তবে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতে হুথিদের সম্পৃক্ততা আরও বেড়ে যায়। তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালাতে শুরু করে।
এর মধ্যে ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই তীব্র হওয়ায় দেশটিতে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি





