ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৬ পূর্বাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর প্রকাশ করেছিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সীমিত হামলাগুলোর মধ্যে কেশম দ্বীপের এ হামলাটি সর্বশেষ। তবে এসব হামলা তুলনামূলক ছোট পরিসরে এবং গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরুর কোনো ইঙ্গিত না যায়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত

কেশম দ্বীপটি হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছিল, দ্বীপটিতে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই দিন দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহের সমুদ্রের দিক থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ আসার খবর প্রকাশ করে আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।

তবে বিস্ফোরণের কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তখন বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কেশম দ্বীপে হামলার বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন প্রকাশের পরও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ৩ তেলবাহী ট্যাংকারে মাইন বিস্ফোরণ, আগুন

হামলা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন না ট্রাম্প

এদিকে ইরানে আবার সামরিক হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন না।

ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তাঁর এ বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ এগিয়ে নিতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফরও করেছেন।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেটির বাস্তবায়ন আটকে যায়।

একদিকে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার খবর, অন্যদিকে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য—সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

 সূত্র : রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি