বাবার জামায়াতের রাজনীতির সম্পৃক্ততার কারণে বাদ পড়েছেন, দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীর

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সব ধাপ সফলভাবে শেষ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ৪৯তম বিসিএসের গেজেটে নাম না আসায় হতাশায় ভেঙে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হলে তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ।

তাহমিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গেজেটে নাম না আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, বাবা জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় তাকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: স্বপ্নে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে বুধবার প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৭ জনের নাম গেজেটে স্থান পায়নি। 

নিজের প্রস্তুতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তাহমিদ জানান, গত বছরের জুন থেকে তিনি চাকরির জন্য নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেন। প্রথমে ব্যাংকের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতেও সফল হন। কিন্তু ৪৯তম বিসিএসের পরীক্ষা সামনে থাকায় এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি স্থগিত রেখে ৪৯তম বিসিএসের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন।

আরও পড়ুন: মীনা বাজারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভাগের শিক্ষকদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে জীবনের প্রথম চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। তাহমিদের ভাষ্য, প্রথম ভাইভা হলেও সেটি ভালো হয়েছিল। পরে পিএসসি তাকে বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে।

তবে সুপারিশ পাওয়ার পরই তার জীবনে শুরু হয় অনিশ্চয়তার সময়। তাহমিদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। বিসিএসের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আশায় আগে আবেদন করা অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় তিনি আর অংশ নেননি। পরবর্তী সময়ে ভালো চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও সেগুলোতেও আবেদন করেননি বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেছেন তাহমিদ। তিনি জানান, ঢাকায় একটি ছোট এক কক্ষের বাসায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। পরিবার ও স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরির চেষ্টা করছিলেন তিনি।

তাহমিদের ভাষ্য, শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও গেজেট প্রকাশের আনন্দের মুহূর্তটি স্বামীর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে তার স্ত্রী নিজের বাড়িতে না গিয়ে ঢাকায় থেকে গিয়েছিলেন। কিন্তু গেজেটে নাম না আসায় সেই ঘরে এখন আনন্দের পরিবর্তে কান্নার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গেজেট থেকে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তাহমিদ বলেন, তার বাবা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমির। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না—এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তখন তিনি বিষয়টি গোপন না করে বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছিলেন।

তাহমিদের দাবি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি ছাড়া তাকে বাদ দেওয়ার মতো অন্য কোনো কারণ তার নথিপত্রে ছিল না। তবে চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়া ৫৭ জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।