রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার, ইতিহাসে প্রথম: আইনমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়াকে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (৭ জুন) রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা, দ্রুত কার্যকরের দাবি

আইনমন্ত্রী বলেন, “কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসার মতো একটি বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।”

তিনি জানান, উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি হত্যা মামলার বিচার একদিনে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত বিচার আর হয়নি। “আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে,” বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ওই বাসার ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটিও বাতিল করা হয়েছিল।