লোডশেডিং নেই, সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট থাকতে পারে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটি কিংবা অন্যান্য কারিগরি কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এনসিটিবি ও চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি না থাকলেও প্রাথমিক জ্বালানির সরবরাহ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঝে মাঝে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ-বিভ্রাট দেখা দিতে পারে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল গ্রামাঞ্চল ও নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ-সংকটের অভিযোগ উত্থাপন করলে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নয়, বরং ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া বা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

আরও পড়ুন: সীমান্তে ৬০ হাজার বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, দিল্লির বৈঠকে বিএসএফের পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ডের জবাব চাইবে ঢাকা

তিনি বলেন, “লোডশেডিং বলতে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে সরবরাহ বন্ধ থাকাকে বোঝায়। বর্তমানে দেশে এমন কোনো বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই।”

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও জানান, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

জামায়াতের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকার পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে না।

বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া আরও ৬৬৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১৫টি কেন্দ্র ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। এর বিপরীতে ১৫ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি দাবদাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কিছু এলাকায় সাময়িক লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে সারা দেশে বিতরণ করা হচ্ছে। রূপসার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকলেও ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সেগুলো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে চরাঞ্চলে ধীরে ধীরে বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে সোলার এনার্জি ও পাওয়ার ব্যাংকভিত্তিক বিদ্যুতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পল্লী বিদ্যুতের দীর্ঘ নেটওয়ার্কে ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণেরও সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি ট্রান্সফরমার সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।