আত্মসমর্পণের পর জামিন পেলেন পরিমণি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমনি ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী (বডিগার্ড) নিয়ে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন। মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।

আরও পড়ুন: তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী আবারও রিমান্ডে

ওই দিন পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন করে জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

পরোয়ানা জারির এক দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। বেলা ১১টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে একটি সাদা গাড়ির ভেতরে তাকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় গাড়ির দুই পাশে কালো পোশাকে অবস্থান করছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন। পরীমনির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

আরও পড়ুন: ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে পরীমনি তাকে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন নাসির। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন আরও দাবি করেন, পরীমনি একটি দামি মদের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে তার অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো চলমান; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

মামলার তদন্ত ও বিচার

২০২১ সালের ৬ জুলাই পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

পরে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনিসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও আদালতে অনুপস্থিত থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

উল্লেখ্য, বোট ক্লাবকাণ্ডে পরীমনি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে।