‘মানব পাচার রুখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ন, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মানব পাচারের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি হুন্ডি ও অর্থ পাচারসহ নানা আনুষঙ্গিক অপরাধে রাষ্ট্রও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অপরাধ চক্র ভাঙতে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. শাহ আলম।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার

অস্ট্রেলিয়ান সরকার ও ব্র্যাকের বাস্তবায়নে 'ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং' প্রকল্পের আওতায় ক্র্যাবের সাথে যৌথভাবে এই কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান মানব পাচার, মানব চোরাচালান ও অনিয়মিত অভিবাসনের নানা দিক এবং এর ভয়াবহতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিদেশে যাওয়ার সময় বাংলাদেশি শ্রমিকরা কীভাবে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন এবং জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাংবাদিকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান যেন এই বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সাথে গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: ডিআরইউ ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন বৃহস্পতিবার

আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান তার বক্তব্যে অভিবাসন ও মানব পাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মীকে সংবাদের গভীরে গিয়ে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক উন্মোচন করতে হবে।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হারুন অর রশীদ বক্তব্য রাখেন। তারা অপরাধ দমনে সাংবাদিক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত ক্র্যাবের ৬৫ জন সদস্য সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। তারা পাচার প্রতিরোধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম মূলত নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরত কর্মীদের একত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।