গাকৃবিতে দি এগ্রিকালচারিস্ট অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

Shahrier Islam Pallab
গাজী মামুন
প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃষিকে ঘিরে মেধা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে একসূত্রে গাঁথার প্রত্যয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দি এগ্রিকালচারিস্ট অলিম্পিয়াড ২০২৬’।

‘কৃষির প্রতিটি মেধাবী মন যেখানে মিলিত হয়’ প্রতিপাদ্যে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস (IAAS) বাংলাদেশ-এর গাকৃবি শাখার উদ্যোগে এবং কামারুন এগ্রো ফার্মের সৌজন্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল পুরস্কার বিতরণী ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশনে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান এবং গাকৃবির সার্জারি অ্যান্ড রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাত্ত্বিকেশ পল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন IAAS বাংলাদেশ, গাকৃবি শাখার লোকাল ডিরেক্টর তৌফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এবং IAAS বাংলাদেশ-এর গাকৃবি শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন IAAS বাংলাদেশ-এর গাকৃবি শাখার লোকাল ডিরেক্টর তৌফিকুল ইসলাম। পরে অনুষ্ঠিত ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশনে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন ড. সাত্ত্বিকেশ পল। অন্যদিকে পাবলিক সার্ভিস ও সরকারি চাকরিতে ক্যারিয়ার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন মোঃ হাসিবুল হাসান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও পেশাগত প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রতীক্ষিত দি এগ্রিকালচারিস্ট অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণী। অলিম্পিয়াডে নিবন্ধনকারী ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেরা দশে স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অর্জন করেন মোসাঃ তাফসসিয়া তাওহীদ, দ্বিতীয় হন মোঃ মুহিত আল জোবায়ের এবং তৃতীয় হন সাবরিনা সালাম। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রাইজমানি, ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন উপাচার্য। বিশ্বের কৃষি বিপ্লবের পেছনে কৃষিবিদদের অবদান অসামান্য উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘কৃষি এখন আর শুধু মাঠে ফসল ফলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কৃষি এখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাই কৃষি শিক্ষার্থীদের নিজেদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, সমস্যা সমাধানকারী, উদ্ভাবক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, “জীবনের লক্ষ্য সুস্থির করার এখনই সময়। কৃষির পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদেও গবেষণা, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও উদ্ভাবনী চিন্তায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে।’’ এ ধরনের অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাইয়ের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন: ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সিরাজুল হকের ইন্তেকাল