এবারও দেশি পশুতে কোরবানি, খামারিদের অনুরোধে সীমান্ত হচ্ছে কড়াকড়ি

Shakil
বাংলাবাজার পত্রিকা
প্রকাশিত: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ২২ মে ২০২৩ | আপডেট: ১:২৭ অপরাহ্ন, ২২ মে ২০২৩
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

গতবারের মতো আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানির জন্য দেশি গবাদিপশুতে ভরসা রাখার চিন্তা সরকারের। খামারিরা বলছেন, দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে চাহিদার বেশি। তাই প্রতিবেশি দেশ থেকে পশু আনার কোনও রকম দরকারই হবে না। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু যেন দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে খামারিরা অনুরোধ করেছেন।

খামারিদের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে সাড়া দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ বিষয়ে বার্তা দ্রুতই সীমান্তে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার

গত কয়েক বছর বাদ দিলে এর আগে কয়েক দশক ধরে কোরবানিতে বিদেশি বিশেষ করে ভারতীয় গরুর প্রাধান্য ছিল বেশি। তখন কোরবানি উপলক্ষ্যে গড়ে ২৪-২৫ লাখ গবাদিপশু দেশের বাইরে থেকে আসত। ধীরে ধীরে সে চিত্র পাল্টেছে। গত কয়েক বছর দেশি পশু দিয়েই কোরবানি করা হচ্ছে। বাইরে থেকে আনা লাগছে না।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু ছিল ১ কোটি ২১ লাখ। ঈদুল আজহায় কোরবানি করা হয় ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি পশু।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি

এবার কী পরিমাণ গরু-ছাগল প্রস্তুত আছে সে বিষয়ে এখনো সরকারি হিসাব হয়নি। বেসরকারিভাবে খামারিরা একটা আনুমানিক হিসাব করে বলছেন কোরবানিযোগ্য পশু যথেষ্ট পরিমাণে আছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেনের মতে, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৭ বা ১৮ লাখ হতে পারে। আর কোরবানি করা হতে পারে ১ কোটি ১০ লাখের মতো পশু। সে হিসেবে দেশি গবাদিপশু আরও উদ্বৃত্ত থাকবে।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে আমাদের দেশে এখন যে উৎপাদন হয় তাতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। সে জন্য অন্য কোনো দেশের গবাদিপশুর প্রয়োজন নেই। সীমান্ত দিয়ে যাতে গবাদিপশু আসতে না পারে সেজন্য আমরা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিঠি দিয়ে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেব। তারা যাতে সতর্ক থাকে এজন্য কাল হয়ত এ নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি পাঠানো হবে।

মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, গত বছর আমাদের ১ কোটি ২১ লাখ কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু ছিল। যার বিপরীতে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। তার মানে গত বছর প্রায় ২২ লাখ কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু উদ্বৃত্ত ছিল। এ বছর আমাদের প্রস্তুতি গত বছরের চেয়ে একটু কম। এখনো সরকারি রিপোর্ট আসেনি। তবে আমার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর গবাদিপশুর সংখ্যা সামান্য কম থাকতে পারে। এ সংখ্যা হতে পারে ১ কোটি ১৭ বা ১৮ লাখের মতো। গত বছর ৯৯ লাখ ৫০ হাজার গবাদিপশু কোরবানি হলেও এবার একটু বেশি হবে বলে আমরা আশা করছি। কারণ এটা নির্বাচনী বছর। সেজন্য কোরবানি বেশি হতে পারে। তাতে যদি ১ কোটি ১০ লাখও হয় তবুও গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে। গবাদিপশুর অভাব হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন বলেন, কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যার হিসাব এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তবে গত বছরের মতো এ বছরও দেশি গবাদিপশুর সংকট হবে না। দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশু আছে।