ফজলুর রহমান দাবি: কোনো দিন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেইনি
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বিএনপির দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে বলেছেন, তিনি কখনো কুরুচিপূর্ণ বা বিতর্কিত বক্তব্য দেননি। বরং জুলাই–আগস্টের শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে আসছেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বরাবর জবাবে এসব কথা বলেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে এ অভিযোগটি অস্বীকার করছি। আমি কোনো দিন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেইনি, যা আমার স্বভাব ও চরিত্রের বিপরীতে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করার পর আমি বলেছিলাম, তিনি একুশ শতাব্দীর প্রথম ‘বীরশ্রেষ্ঠ’। আমার বক্তব্যে জুলাই–আগস্টের শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।”
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বৃদ্ধি: ২০ দিনে ৭১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা ও পরিকল্পনা
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি একজন দৃঢ় বিশ্বাসী মুসলমান এবং ইসলাম ও আল্লাহ-রাসূলের প্রতি অটল আস্থা রাখেন। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি রাজনৈতিকভাবে সবসময় বক্তব্য রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও রাখবেন।
ফজলুর রহমান জানান, কোটা আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় তিনি ছাত্রদের গণতন্ত্রের আন্দোলনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেছিলেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলন ও বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াত-শিবির নিজেদের ‘জুলাই আন্দোলনের ভ্যানগার্ড’ দাবি করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুন: জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে সরকার: মির্জা ফখরুল
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি নিয়মিত বক্তব্য দিয়েছেন এবং জামায়াত-শিবিরকে ‘কালো শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের জমি থেকে জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সুবিধা গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
ফজলুর রহমান জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ তিনি কখনো করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে সব সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন তিনি।





