আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৭ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

আরও পড়ুন: আজ সচিব সভা, সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় পরিবারে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে যে সচেতনতা ও গুরুত্ব ছিল, আধুনিক জীবনধারা এবং কর্মব্যস্ততার কারণে তা অনেকাংশে কমে এসেছে। জন্মের পরপরই অনেক ক্ষেত্রে নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা রাখা এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে শিশুর প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ

মন্ত্রী আরও বলেন, শিশুর মানসিক বিকাশে মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা দীর্ঘ সময় শিশুকে মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার প্রভাব তার আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক হাম (মিজলস) পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে।

অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শিশুর জন্য বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধ পানের গুরুত্ব নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং এ কাজে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও আরও ভালো ফল পেতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি জানান, নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।