শহিদ ওসমান হাদির সন্তান ও ভাইয়ের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্তান ও ভাইকে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তাদের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়।

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শহিদ ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কারণ এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত কোনো চক্র গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক

জিডিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে তাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে তিনি ও শহিদ হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, গুলি তার মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মরদেহ দেশে আনার পর ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।