মিষ্টি কথায় বিভ্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার দুপুরে সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচি উপলক্ষে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ
তিনি বলেন, “অনেকে আছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে কিন্তু বিভ্রান্ত করতে চায়। আমাদেরকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে—বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে কারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়।”
“তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। পারবেন তো? আপনাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।”
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানা-নানির কবর জিয়ারত করলেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে মা-বোনদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ, এলাকার মানুষ কীভাবে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
“আমাদের রাজনীতি হচ্ছে আমাদের সন্তানেরা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরা কীভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে সেটাই নিশ্চিত করা। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কীভাবে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব—সেটি কৃষি হোক, সেটি শিল্প হোক—সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে জনগণের সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমি কিন্তু একা পারব না। কাকে লাগবে সঙ্গে? জনগণকে সঙ্গে লাগবে।”
“নির্বাচনে যেমন আপনারা ধানের শীষের সঙ্গে ছিলেন, আপনারা সমর্থন দিয়েছেন, এখনও আপনাদের সমর্থন ছাড়া আমরা এই কাজগুলো করতে পারব না। জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশ উন্নয়নের কাজ সম্ভব না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। সেই জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।”
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরাপুরের সাহাপাড়া খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর খালের পাড়ে কয়েকটি বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।
১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহাপাড়া খালটি খনন করেছিলেন।
বেলা সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের সমর্থন থাকলে যে কোনো পরিকল্পনাকে আমরা সফল করতে পারব। সেজন্য আসুন, আজকে এই খাল খনন কর্মসূচি আমরা উদ্বোধন করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে আজকে দেশ গড়ার কর্মসূচির কাজ আমরা শুরু করলাম ইনশাআল্লাহ।”
“আমরা এই খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশে মানুষ তার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। যে বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এবং সেজন্যই আমি সবসময় একটা কথা বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই আমাদের শপথ।”
খাল খনন করলে জনগণের কী সুবিধা পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা যারা বিএনপি করি আমরা এমন একটি দল করি, যার কাজ হচ্ছে সেই কাজগুলো করা—যে কাজগুলো করলে মানুষের উপকার হবে, মানুষ খুশি হবে। আমরা চেষ্টা করি সেই কাজগুলোই করতে এবং সে কারণেই আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে আমরা এই সাহাপাড়া খালটির পুনঃখননের কাজ শুরু করেছি।”
“এই খালটি ইনশাআল্লাহ আমরা সম্পূর্ণভাবে যখন কাজ শেষ করতে পারব, তখন প্রায় ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি পাবে। এই খালের সুবিধা পাবে ৩১ হাজার কৃষক। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি এই খালের পানির সেচ সুবিধার মধ্যে আসবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবে। এই খালের পানি বিভিন্নভাবে কৃষকরা ব্যবহার করতে পারবে। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে—এই এলাকার কৃষক ভাইয়েরা ও কৃষাণী বোনেরা যে ফসল উৎপাদন করবে, এখন যে ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদিত হবে।”
শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা ও পানি সংরক্ষণ করে মৎস্য চাষ এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই খালটি আপনারা পুনঃখনন শেষ করলে আমি আবার এটা দেখতে আসব।”
খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ (১০ হাজার টাকার পর্যন্ত সুদসহ), এপ্রিল মাসে কৃষি কার্ড বিতরণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি প্রভৃতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এই কাজগুলো করলে কি আপনারা মনে করেন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? আপনারা কী বলেন?”
“এই কাজগুলো করলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা চাই এমন পদক্ষেপ নিতে, যার মাধ্যমে মানুষের আয় দ্বিগুণ হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য। এটাই হচ্ছে শহীদ জিয়ার রাজনীতি, এটাই হচ্ছে খালেদা জিয়ার রাজনীতি এবং এটাই হচ্ছে আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের রাজনীতি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি নির্বাচনের সময়ে একটা কথা বলেছি—বিদেশে অনেকের আত্মীয়-স্বজন আছে, তাদের সঙ্গে আপনাদের নিশ্চয় কথা হয়। তারা বলে, ওদের দেশটা সুন্দর। তো ভাই, ওদের দেশটা যদি সুন্দর হয়, সেটা কি জ্বীন-ভূত এসে দেশ বানিয়ে দিয়ে গেছে? ওদের দেশের মানুষই তো দেশ সুন্দর করেছে। করেছে না?”
“ওদের দেশ তো জ্বীন এসে সুন্দর করে নাই। ওই দেশের মানুষই তো ওদের দেশকে গড়ে তুলেছে। তাই তো? ওরা পারলে তাহলে আমরা কেন পারব না? আমরাও ইনশাআল্লাহ পারব।”
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাংসদ আখতারুজ্জামান মিয়া, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মঞ্জরুল ইসলাম, সাদেক রিয়াজ, কাহারোল উপজেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।





