আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৪ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশের জবাবে হাসপাতাল যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা শোকজের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি

তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ধরনের গাফিলতির তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল অপর্যাপ্ত।

এছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক ওয়ার্ডে উপস্থিত ছিলেন না বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার পর জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতি দেখা যায়।

একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা ওই নোটিশে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।