৮০ লাখ নন-ফাইলারের তালিকা তৈরির উদ্যোগ এনবিআরের, পাঠানো হবে নোটিশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ন, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪২ পূর্বাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে প্রায় ৮০ লাখ ইটিআইএনধারী আয়কর রিটার্ন জমা দেননি বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এসব নন-ফাইলারের তালিকা তৈরি করে তাদের নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ ও বিজিবিএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন দিচ্ছেন না। ই-টিআইএন ও ই-রিটার্ন ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নন-ফাইলারদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে। পরবর্তীতে রিটার্ন জমা না দিলে পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের আয়-ব্যয় যাচাই করা হবে।

তিনি আরও জানান, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ম্যানুয়াল অডিট সিলেকশন পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে রিস্ক-বেসড অটোমেটেড অডিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করদাতা নির্বাচন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, ইউএইর সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

ভ্যাট ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা বর্তমানে ৮ লাখের নিচে, যা প্রত্যাশার তুলনায় কম। এ কারণে ভ্যাট নিবন্ধন বাড়াতে এবং প্রক্রিয়া সহজ করতে আইনগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বছরে একবার নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ রাখা হতে পারে। পাশাপাশি মোবাইল ও ডিজিটাল মাধ্যমে সহজে ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর ফাঁকি ও ভ্যাট অনিয়ম রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পণ্য পর্যায়ে কিউআর কোড ও ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বিভিন্ন পণ্যে সম্প্রসারিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে কর সচেতনতায় যুক্ত করতে “হুইসেল ব্লোয়ার” হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। কর ফাঁকির তথ্য প্রদানকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।