ঈদযাত্রায় মাঝপথে বেশি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে যানজট এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, বাস কাউন্টারের চেয়ে মাঝপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে ছয় স্তরের নিরাপত্তা, ঢাকায় দায়িত্বে থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলনামূলক কম। তবে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মাঝপথে যেকোনো বাসে উঠতে চাইলে কিছু অসাধু ব্যক্তি সেই সুযোগ নিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছে।”
আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী
সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছুটা যানবাহনের ধীরগতি দেখা গেলেও সেটি স্বাভাবিক। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঈদযাত্রার চাপ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম জানান, কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছেড়েছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহন করতে হচ্ছে, যা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও পরিবহন খাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যাত্রীদের উদ্দেশে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই আগাম টিকিট সংগ্রহ না করে শেষ মুহূর্তে যাত্রা শুরু করেন। এতে চাপ বেড়ে যায় এবং কিছু অসাধু চক্র সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।
রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজনের বিষয়ে তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত কোচ না থাকায় সব ট্রেনে এখনই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও ইজারাদারদের আওতাধীন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সড়কমন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতকে মাল্টিমোডাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানি গঠন, মেট্রোরেল সম্প্রসারণ এবং মনোরেল প্রকল্পও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।





