ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে সরকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪১ অপরাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট।

আরও পড়ুন: কড়াইল জামাইবাজারে ঢাকা ওয়াসার গভীর নলকূপ উদ্বোধন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্প ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প এবং নতুন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুর পরিকল্পনা

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা বাবদ আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ১৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি হতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকেই নেওয়া হবে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।

কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সিগারেট ও অন্যান্য নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকায় এসব পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা কাজুবাদাম, হিমায়িত মাছ, বিদেশি প্রসাধনী এবং এমএস রডের দামও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ শিল্পের বিদ্যমান কর সুবিধাও বহাল রাখা হতে পারে। এছাড়া ইলেকট্রিক যানবাহন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি কৃষিপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

এবারের বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ প্রণয়ন। প্রথম ধাপে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছরে এটি ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত বিশেষ শ্রেণির নাগরিকদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ও রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল, আধুনিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা আগামী অর্থবছরে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।