ট্রাম্পের গাজা-সংক্রান্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন ফিলিস্তিনি নেতারা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজাকে কেন্দ্র করে একটি কথিত শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির দাবি করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি পক্ষ। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আলোচনার বর্তমান অবস্থাকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না।
ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেছেন, গাজায় অস্ত্র হস্তান্তর বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থা কেবল তখনই বিবেচনা করা যেতে পারে, যখন ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে এবং সামরিক অভিযান বন্ধ করবে।
আরও পড়ুন: শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা
তাদের দাবি, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, অবরোধ প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি—এসব বিষয়ে সমাধান ছাড়া কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নই আসে না।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তার উদ্যোগে গাজার সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ প্রক্রিয়ায় মিসর, কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং এর মাধ্যমে গাজার জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন
তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর ভাষ্য, ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনার বাস্তব চিত্র পুরোপুরি উঠে আসেনি। তাদের মতে, নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি কোনো প্রাথমিক শর্ত নয়; বরং এটি একটি সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ, যা ইসরাইল সেনা প্রত্যাহার ও সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
ফিলিস্তিনি নেতারা আরও বলেন, গাজাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং অঞ্চলটির ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নিয়ে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্ন বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং বাইরের কোনো পক্ষ একতরফাভাবে তার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
এদিকে বিবিসি, আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি ও আল-মায়াদীনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইল নিরস্ত্রীকরণকে সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, সেনা প্রত্যাহারই হতে হবে প্রথম পদক্ষেপ। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান দূর করা এখনো জরুরি।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রোনিকল, রয়টার্স





