সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস. ওয়াই. রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার বিমানবন্দরে ৪৫ কোটি টাকার স্বর্ণ আটকে তোলপাড়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যে কোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করা হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
আরও পড়ুন: বেবিচকের বিতর্কিত প্রকৌশলী হাসিবের পদোন্নতি, সমালোচনার ঝড়
বৈঠকে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন দিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাদের বাংলাদেশে আগমন ও উচ্চশিক্ষা সহজ করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা প্রদানে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার আবেদন করলে যাচাইয়ের সুবিধার্থে সেই আবেদনের অনুলিপি ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো যেতে পারে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে রয়েছে। তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।”
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইনচার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ. ও. আলাইদি উপস্থিত ছিলেন।





