আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের আদর্শ ছিল প্রধান অনুপ্রেরণা: রিজভী

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৮ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনভর অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরের কবি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার

রিজভী বলেন, যেকোনো অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত নজরুলের চেতনা মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে আজও নজরুলের বাণী মানুষকে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি

দ্রোহ, মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য প্রতিভা। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। তবে দারিদ্র্যের কাছে হার মানেননি; বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাত, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে তার সৃষ্টিশীলতার ছাপ পড়েনি।

কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল জীবনের সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মধ্যে নবজাগরণের চেতনা তৈরি করেছিল এবং শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল।

নজরুল একদিকে সাহিত্যচর্চা করেছেন, অন্যদিকে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সংগ্রামেও যুক্ত হয়েছেন। কবির নিজের ভাষায়—‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।