মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৯ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

আজ (২৪ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমির মধ্যে কো-পাবলিকেশনস বিষয়ে সমঝোতা

কর্মশালায় অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কারিকুলামকে কর্মবাজারমুখী করা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা। এর মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনার বড় একটি অংশজুড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা রয়েছে। আগের সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা, শুরু ১৪ মার্চ

সদস্য অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, অন্যান্য শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যে ধরনের দক্ষতা ও সুযোগের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সরকার। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তাঁদের জাতি গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কর্মশালার আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস হিন্দীসহ সংশ্লিষ্টরা।

কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ওপর থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় ১০০ জন অধ্যক্ষ, ১০০ জন শিক্ষক ও ১০০ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে মাদ্রাসা কারিকুলামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

কর্মশালায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং ইউজিসির উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাঁদের যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্টার্টআপসহ বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানো এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো কর্মশালার আলোচনায় গুরুত্ব পায়।