শ্রমবাজার বিরোধের কেন্দ্রে সেই ফখরুল!

এজেন্সিগুলোর বিরোধে আবারও বন্ধের পথে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

Sadek Ali
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৭ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

# আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত, ভারত সফর, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন

# ফখরুল ও মোজাম্মেলের বিষয়ে তদন্ত চান বায়রা সদস্যরা 

আরও পড়ুন: ৮১তম উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক শ্রম বাজার মালয়েশিয়ায় আবারও কর্মী পাঠানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই বিরোধে অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সাবেক বায়রা যুগ্ম মহাসচিব ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিরোধিতা করছেন না। তার দাবি, সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং সীমিতসংখ্যক প্রধান এজেন্সির ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করা উচিত হবে।’

ফকরুলের সঙ্গে শ্রমবাজার বিরোধী ষড়যন্ত্রে আরও রয়েছেন অর্ণব অর্ণা ওয়ার্ল্ড ভিশন নামক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক বা প্রোপরাইটার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তাদের নেতৃত্বে চলমান প্রচারণা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। আগে তার ব্যবসায়িক ভূমিকা কী ছিল? মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় তার প্রতিষ্ঠান বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কী ছিল? বর্তমান কাঠামোর বিরোধিতার সঙ্গে তার ব্যবসায়িক স্বার্থের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার ঘটনার সত্যতা

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি মালয়েশিয়া-নির্বাচিত প্রধান এজেন্সি, ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের নাম রয়েছে। ফখরুল গংদের মূল আপত্তি হলো, সহযোগী এজেন্সিগুলো যদি প্রধান এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ একটি গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে।

অন্যদিকে, সমালোচকদের প্রশ্ন—নতুন কাঠামোতে শত শত প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পরও কেন এই বিরোধ অব্যাহত রয়েছে? এই বিরোধ কি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার চেষ্টা, নাকি বাজার নিয়ন্ত্রণের পুরোনো প্রতিযোগিতার নতুন রূপ?

কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন মুখে মুখে সবার সমান সুযোগ-সুবিধার কথা বললেও ফখরুল গংদের ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে। মূলত: প্রতিবেশী দেশ ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে বিশেষ ব্যবসায়িক সুযোগ করে দিতেই তার এই অপতৎপরতা। তিনি সম্প্রতি একাধিকবার ভারত সফর করেছেন। তার এই ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সফরের তারিখ, গন্তব্য, উদ্দেশ্য এবং সেখানে কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে সফরের আগে ও পরে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে তার প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডের সময়রেখাও পর্যালোচনা করা দরকার। তিনি ভারতে কেন গিয়েছে, কাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন সেটাও তদন্ত জরুরি। এছাড়াও আমাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও ফখরুল গংদের গভীর সখ্যতা দেখা যায়।

বায়রা সদস্যরা জানান, ফখরুল ইসলামের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। ওই রাজনৈতিক দলের একাধিক সমাবেশে তাকে দেখা গেছে। তবে ফখরুলের পক্ষের লোকজন বলছেন, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সাবেক সরকারের সঙ্গে ছবি, সাক্ষাৎ বা পেশাগত যোগাযোগ থাকলেই তা রাজনৈতিক নির্দেশনা বা অবৈধ সমন্বয়ের প্রমাণ হয় না। এসব সম্পর্কের প্রকৃতি, সময়কাল এবং প্রাসঙ্গিকতা আলাদাভাবে তদন্ত জরুরি।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই লাখ কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে মালয়েশিয়া পরে জানিয়েছে, এই সংখ্যা এখনো তাদের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। সংখ্যা আরও বেশিও হতে পারে। বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান। ফখরুল গংরা চান না বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক যাক। তাই তিনি নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন।

বায়রা সদস্যদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মীর জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরোধ যেন কর্মীদের বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বিলম্বিত না করে সেটি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ একটি বেকারত্ব দূরীকরণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির মতো জাতীয় স্বার্থ রয়েছে। তাই ফখরুলেদের অপতৎপরতা থামানো জরুরি।

প্রশ্ন উঠেছে, ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন কি নিয়োগ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করবে? নাকি ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ অনিশ্চিত থেকে যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফখরুল ইসলামের অতীত ব্যবসায়িক রেকর্ড, বায়রায় তার ভূমিকা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, ভারত সফর এবং বর্তমান প্রচারণা সবকিছু নথিভিত্তিকভাবে তদন্ত জরুরি।

বায়রার সাবেক নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ফখরুল ও মোজাম্মেলসহ তার কয়েক সহযোগী দেশবিরোধী চক্রান্তে জড়িত। দ্রুতই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।