ধর্ষণের অভিযোগে বাড়ছে উদ্বেগ
মাত্র তিন মাসে হরিরামপুরে ৬ টি আলোচিত ঘটনা
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একের পর এক আলোচিত ও উদ্বেগজনক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় অন্তত ছয়টি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে শিশু হয়রানি, ধর্ষণের অভিযোগ, থানা থেকে জব্দ করা মোটরসাইকেল উধাও এবং পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন ও চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে নারী ও শিশুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো। এর মধ্যে ২৩ জুলাই পদ্মার চরাঞ্চলে মানসিক ও বাক্প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ
১১ বছরের শিশুকে হয়রানির অভিযোগ
সেপ্টেম্বরের শুরুতে উপজেলার গালা ইউনিয়নের ঝিটকা সোনাকান্দা গ্রামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে হয়রানি ও আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ
গত ২৩ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা এলাকায় পদ্মার চরাঞ্চলে মানসিক ও বাক্প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় মামলা করেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগটি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিসে অর্থ দেওয়ার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে।
থানা থেকে জব্দ মোটরসাইকেল উধাও
৪ আগস্ট হরিরামপুর থানায় জব্দ থাকা একটি মোটরসাইকেল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেলটি থানার হেফাজতে থাকার পরও পরে সেটি আর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে থানার হেফাজতে থাকা জব্দ যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে।
পদ্মায় চ্যানেল চার্জ নিয়ে হামলা, আহত ১১
২১ আগস্ট পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জন আহত হন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় হামলার অভিযোগ থাকলেও হরিরামপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালু উত্তোলন ও চ্যানেল চার্জ নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি
এর কয়েক দিনের মধ্যেই, ২৫ আগস্ট পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন ও নৌ-চ্যানেলে চার্জ আদায়ের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, কর্মসূচি ও উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে থানা ঘেরাও ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কথাও উঠে এসেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এসব ঘটনার কারণে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, নদীপথে চ্যানেল চার্জ আদায়, বালু উত্তোলন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আলোচিত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আফজাল হোসাইন মুঠোফোনে বলেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।





