সাংবাদিকদের কল্যাণে ডিআরইউর পাশে থাকার আশ্বাস

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪০ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পেশাদার সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ডিআরইউর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলসহ চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

সভায় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয়, কল্যাণ এবং সংগঠনের নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিআরইউর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখারও আশ্বাস দেন তিনি।

ডিআরইউর বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়ে অবহিত করা হলে সংগঠনটির প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: একনেকে ১৫ হাজার ৭১৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

সরকার সাংবাদিকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে নয় উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অনেকে নামে-বেনামে ফেসবুক পেজ ও ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল খুলে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে অনেকে হাতে একটি মোবাইল নিয়েই সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক কারা—এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা ও মাপকাঠি প্রয়োজন। এ মাপকাঠি নির্ধারণে বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সাংবাদিকতার পরিচয় নির্ধারণে গ্রহণযোগ্য মাপকাঠির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় ও আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা, নতুন নীতিমালা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও এ ধরনের মাপকাঠি প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়নের দিকে সরকার নজর দিচ্ছে। এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো দেখার দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে ডিআরইউ সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের কার্যকর ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে। সাংবাদিকরা বর্তমান সরকারকে গণমাধ্যমবান্ধব হিসেবে দেখতে চান এবং এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ডিআরইউ একটি অরাজনৈতিক সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রায় ২ হাজার পেশাদার সাংবাদিকের এ সংগঠন সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করছে। বছরব্যাপী শতাধিক কর্মসূচি আয়োজন করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ডিআরইউর সহসভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আখতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল আমিন আজাদ ও আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।