এক কর্মকর্তার হাতে পাঁচ পদ, নিয়োগ ও দায়িত্ব নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন
একজন কর্মকর্তার হাতে একই সময়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্ব থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি হলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) কর্মকর্তা মো. হোসেন বিন আমিন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি দুটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি), একটি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি), একটি সংস্থার পরিচালক এবং আরেকটি সংস্থার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এভাবে একজন কর্মকর্তার হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক যৌক্তিকতা এবং তাঁর অতীতের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৯ সালে তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) মাধ্যমে মো. হোসেন বিন আমিন বিসিসিতে নিয়োগ পান। তবে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আগে মো. হোসেন বিন আমিন ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ডিপিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টারে সিনিয়র প্রোগ্রামার এবং বিসিসির BKICT-তে সিনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তদবির ঠেকাতে লটারিতে ঢাকার ৭ ভূমি অফিসে ৯ জনের বদলি
BKICT-তে দায়িত্ব পালনের সময় ই-রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিসিসির ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর একাধিক প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রশ্ন—একজন কর্মকর্তাকে একই সময়ে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জনবল কাঠামো, কাজের চাপ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে?
মো. হোসেন বিন আমিনের বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিসিসির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং তাঁকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, শাস্তির এক বছরের মধ্যেই তিনি পদোন্নতি পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, শাস্তির ধরন ও পরবর্তী পদোন্নতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, মো. হোসেন বিন আমিন যেসব দপ্তর ও প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো না কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের প্রশ্ন, অতীতে কোনো কর্মকর্তা বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার আগে তাঁর চাকরির রেকর্ড ও শৃঙ্খলাজনিত তথ্য যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল কি না।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মো. হোসেন বিন আমিনও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নিয়েছেন।
তাঁদের ভাষ্য, ‘যখন যে সরকার আসে, তখন সেই সরকারের লোক হয়ে যান’—এমন অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
তবে এটি একটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিযোগ; এর পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একজন কর্মকর্তার হাতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, তাঁর নিয়োগের প্রক্রিয়া, অতীতের বিভাগীয় শাস্তি, বিভিন্ন সময়ে পাওয়া পদোন্নতি এবং দায়িত্ব পালনকালে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমানে তিনি কোন কোন পদে কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এসব দায়িত্বের জন্য পৃথক কোনো সরকারি আদেশ রয়েছে কি না, তাও প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।





