আগামীকাল খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৮ পূর্বাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এলএনজি টার্মিনাল, মোংলা বন্দরের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে সম্ভাবনা পর্যালোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও শিল্পায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে এ অঞ্চলে এটিই তাঁর প্রথম সফর। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল, মোংলা বন্দরের জেটি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনার কথা রয়েছে তাঁর।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও সম্ভাব্য শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

আরও পড়ুন: বিআরটি প্রকল্প নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড

সফরসূচি অনুযায়ী, হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করার কথা রয়েছে তাঁর।

সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সেখানে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এলএনজি টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য সুফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সমীক্ষা, পরিকল্পনা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শনের পর নৌপথে মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন তিনি।

সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ানো, নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোংলা বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত শিল্পায়ন বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর হলেও স্থানীয় মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সফর সফল করতে প্রশাসন ও তাঁরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। পরে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হবেন।

তবে দাকোপে প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই বলে জানান ইউএনও। এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর আবারও খুলনা সফরের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই দিন খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।

একদিকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত গুরুত্ব, অন্যদিকে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য শিল্পাঞ্চল—এই তিন ক্ষেত্রকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে এসব সম্ভাবনা নিয়ে কী ধরনের অগ্রগতি হয়, সেদিকে নজর থাকবে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের।

তবে সফর ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপ নিতে হলে পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।