ইনানী রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: স্বামী, স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ যশোরের চারজন নিখোঁজ

Sadek Ali
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৪ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে যাওয়া নাহিদুর রহমানের সন্ধানে তার পরিবার এখন পাগলপ্রায়। কিন্তু এখনও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ চারজন হলেন, যশোরের মণিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

আরও পড়ুন: বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

পারিবারিক সূত্র জানায়, নাহিদুর রহমান ঢাকায় শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে কান্নার রোল। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীরা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহের মধ্যে তারাও থাকতে পারেন।

স্বজনেরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সাইন্স বিভাগে পড়তেন। নাহিদুরের বড়ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স মণিরামপুর পৌর শহরে বসাবস করেন। নাহিদুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি কক্সবাজারের হোটেলটির বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

আরও পড়ুন: ধুনটের ওসিকে এসপির ক্রেস্ট, পুরস্কার ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন

বিলের কপিতে দেখা যায়, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং করেছিলেন। নাহিদুর ১১ অক্টোবর রিসোর্ট বুকিং দিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।

জাহিদুর জানান, নাহিদুর শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলেছিলেন। শনিবার আগুনের ঘটনা জানার পর ভাইকে মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু তিনি মোবাইলে নাহিদুর বা পরিবারের কাউকে পাচ্ছেন না। মোবাইল ফোনে তার ভাইদের না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নিজে কক্সবাজার রওনা হয়েছেন। তিনি জানান, তারা দুই ভাই, মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সাথে গ্রামে থাকে। বাবা এখনো জানেন না নাহিদুরের ঘটনা। সে গৃহিণী স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতো। ছুটি পেলে বা উৎসবে তারা গ্রামে আসতো। তারা বেঁচে আছে, না মারা গেছে সেটাও নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি বলে জানান জাহিদুর।

নাহিদুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নাহিদ নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন, এটি জানা গেছে। বাকিদের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি জানান, ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে বাকি চারজন নাহিদুরের পরিবার।

এদিকে, নাহিদুর ও তার পরিবার নিখোঁজের খবর শনিবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ফেসবুকে তাদের ছবি পোস্ট করে সমবেদনা জানাতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হন। এদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে পোড়া ১০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে মরদেহগুলো ভয়ানকভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তাদেরকে চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।