এআই যেন বেকারত্বের সংকট না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন বাংলাদেশের বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি হতে হবে মানুষের কল্যাণে। এ অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী-ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এআই বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তার মতে, এআই শুধু ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি নয়; বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তৈরিতে এ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন: ৮ মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী

এআইয়ের প্রভাবকে বিদ্যুতের আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদ্যুৎ যেমন সভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছিল, তেমনি এআইও বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। সামনে এ পরিবর্তনের গতি আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণেরা প্রযুক্তিবান্ধব এবং স্বপ্ন দেখতে জানেন। তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান শক্তি। তবে এ বিপ্লবের সুফল পেতে হলে তাদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশের পরিচিতি তৈরি করেছে, তেমনি ভবিষ্যতে এআইশিল্পও বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে পারে।

এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে সরকার মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যোগ করবে। বাংলাদেশকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগকারী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবে না। নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম সম্মিলিতভাবে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত এআইনির্ভর নয়, বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী দেশ গড়ে তোলা। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে এআই সক্ষমতা তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণার সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।