গণহত্যার জন্য অনুশোচনা নেই, তাদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গণহত্যা চালানোর পরও যারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা অনুশোচনা করেনি, জনঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে অবস্থান করছে, তাদের আর কখনো বাংলাদেশে এসে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলাম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে আইকাওয়ের এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিট সম্পন্ন, নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তুষ্ট অডিট দল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা ও নৃশংসতা চালিয়েছে এবং দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের এ দেশের মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৭ বছর লেগেছে। এ আন্দোলনে আলেম-ওলামারাও রক্ত দিয়েছেন। শাপলা চত্বরে কত মানুষ শহীদ হয়েছেন, এখনো তাঁদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা জানা যায়নি। এত রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশ সেই সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: কারাগারে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাব্বুল আলামিন তাঁর হায়াত রেখেছেন। সবার দোয়া ও আল্লাহর রহমতে আজ তিনি বেঁচে আছেন। এ ছাড়া প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

সংবিধান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দিয়েছিলেন। সেটি পুনঃস্থাপন করা হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান। জাতির মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে যে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে ধারণ করা হবে।

আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা যাবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করা যেতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করা যাবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।