সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় জানা‌ল কনস্যুলেট

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৯ অপরাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাত বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। হতাহত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। নিহত ও আহতরা মোট তিনটি পরিবারের সদস্য।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: লটারিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ জন

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন বাংলাদেশি হতাহত হন।

নিহতদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন হলেন—জিয়াউর রহমান, তাঁর মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান। তাঁদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ পরিবারের আহত দুজন হলেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা। শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতাল এবং ইউসরা জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের উচ্চপদস্থ ৩৪ কর্মকর্তা

অন্যদিকে, আলম শাহের পরিবারের নিহত দুজন হলেন তাঁর স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া। তাঁদের মরদেহ যথাক্রমে আল-হিমনা ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ পরিবারের আহত দুজনের মধ্যে আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তাঁর ছেলে ফায়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ছাড়া ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। কয়েক দিন আগে তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁর মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আহত অপর বাংলাদেশি গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। তখন গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। ট্রাফিক অফিসের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালকের দাবি, টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় হতাহত যাত্রীদের মধ্যে চারজন আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানিটির মক্কা শাখার ম্যানেজার সালমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই চার কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একই গাড়িতে ছিলেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

কনস্যুলেট জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।