পরিবর্তন ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:০০ পূর্বাহ্ন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি মহল সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্ম ও মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

একটি মানবিক-উন্নত দেশ গড়ার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সবার মান-ইজ্জত-অধিকারের সুরক্ষা দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করব। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়। 

আরও পড়ুন: নওশাদের কাছে হারলেন সারজিস আলম, ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪ ভোট

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত পরিকল্পনা পরের দিন থেকে বাস্তবায়নের কাজে লেগে পড়বে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।

আরও পড়ুন: ঢাকা-৮ আসনে পরাজিত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জয়ী মির্জা আব্বাস

ভাষণে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব এই তরুণদের হাতেই তুলে দিতে হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সেই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল।

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও বলেন।

নারী অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সুশাসন, ইনসাফ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে সবার—যেখানে ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করবে।

শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।