১৮ বছর পর হাতপাখার জয়, বরগুনা-১ আসনে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:২৪ পূর্বাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৮ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতীক হাতপাখা। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোটের ব্যবধানে বরগুনা-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ অলি উল্লাহ।

দক্ষিণাঞ্চলে ‘কেওড়াবুনিয়ার পীর’ নামে পরিচিত অলি উল্লাহ এই আসন থেকেই হাতপাখা প্রতীকের প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন। একই সঙ্গে ২৫৩টি আসনের মধ্যে এটিই একমাত্র আসন, যেখানে ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থী জয় পেলেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম দলটির কোনো প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: যুবদলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে ভোটের লড়াই ছিল বেশ টানটান। আমতলীর ৬৫টি কেন্দ্রে হাতপাখা প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৪৭৫টি, সেখানে ধানের শীষ পেয়েছে ৪১ হাজার ৩৮২ ভোট।

তালতলীর ৩০টি কেন্দ্রে চিত্র ছিল ভিন্ন। সেখানে ধানের শীষ পেয়েছে ২৮ হাজার ২৬০ ভোট, আর হাতপাখা পেয়েছে ২০ হাজার ৬৪৫ ভোট। বরগুনা সদর উপজেলার ৯৫টি কেন্দ্রে দুই প্রতীকের ভোট ছিল প্রায় সমান। এখানে ধানের শীষ পেয়েছে ৬৩ হাজার ৬৯৫ ভোট, হাতপাখা পেয়েছে ৬২ হাজার ৩৯২ ভোট।

আরও পড়ুন: বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদল সহ সভাপতি ডাঃ আউয়ালের নেতৃত্বে মিছিল

সব কেন্দ্রের ফলাফল যোগ করলে হাতপাখা প্রতীকের মোট ভোট দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২। অন্যদিকে ধানের শীষ পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট। ফলে হাতপাখার বিজয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৭৫ ভোট।

এই ফলাফলকে বরগুনার রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ইসলামী আন্দোলনের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকা অলি উল্লাহর এই বিজয় দলটির জন্য যেমন একটি বড় মাইলফলক, তেমনি বরগুনা-১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, দলটির সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ। পরে বিভিন্ন পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পায় দলটি এবং হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ হয়।

এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তবে অনানুষ্ঠানিক ফলাফলই বলে দিচ্ছে—বরগুনা-১ আসনে ইতোমধ্যে লেখা হয়ে গেছে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস।