প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারেক রহমান
দুই দশকের কম সময় নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি জনমত জরিপগুলোর পূর্বাভাস সঠিক হয়, তবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় মোড় এনে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: নওশাদের কাছে হারলেন সারজিস আলম, ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪ ভোট
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজনে ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। সে সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছিল।
দীর্ঘ নির্বাসনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান। পরবর্তীতে গত বছরের ডিসেম্বরে বড়দিনে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাকে ঘিরে ব্যাপক জনসমর্থন ও উৎসবমুখর পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা-৮ আসনে পরাজিত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জয়ী মির্জা আব্বাস
রয়টার্স আরও জানায়, তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কথা বলেছেন। বিপরীতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল বলে রয়টার্স উল্লেখ করেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, “প্রতিশোধ মানুষের জীবনে ভালো কিছু বয়ে আনে না। এর ফলে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়।” তিনি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





