শেখ মুজিব রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার ভয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: ডা. আউয়াল
ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ ড্রাফট করে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা। শেখ মুজিব বলেছিলেন, "আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলার আসামি বানাইতে চাও?" স্বাধীনতার ঘোষণা শেখ মুজিব কোনোদিন দেননি, উনি ছিলেন ভীতু। আর তাঁর মেয়ে হচ্ছে মহাভীতু। জেনেটিকের বিষয় আছে না? আপনারা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সম্বন্ধে জানেন তো, যে বাপে যা করে, মেয়ের মধ্যেও তার কোয়ালিটি থাকে। শেখ মুজিব যেমন ভীতু ছিলেন, শেখ হাসিনা তাঁর থেকে মহাভীতু। তাঁর বাপ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে পালিয়ে ছিলেন।
আজকে তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনা ইন্ডিয়াতে পালিয়ে গেছেন, সে কোনোদিন আর বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারবে না।
আরও পড়ুন: ‘ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস’: ডা. শফিকুর রহমান
বিকেলে রাজধানীর জিয়া উদ্যান এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে দোয়া শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ২০৩০ ভিশন এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
আউয়াল বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। মশিউর রহমান জাদু মিয়া যখন মাওলানা সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখন জিয়াউর রহমান সম্পর্কে উনি তিনটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন যে জিয়াউর রহমান ভালো, সৎ এবং দেশপ্রেমিক। আজও পর্যন্ত সেই জিয়া পরিবার, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, পরবর্তীতে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আজকে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা ভালোত্বের প্রতীক, তাঁরা সততার প্রতীক। তাঁরা দেশপ্রেমিকতার প্রতীক।
আরও পড়ুন: এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাঁর অপকর্মের জন্য আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের কাছে সরি পর্যন্ত বলেননি। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা অপেক্ষা করছে—হাসিনা আসবে, ফাঁসির দড়ি গলায় নিয়ে তারা যাবে এবং হাসিনাকে ফাঁসি দিয়ে তারা ঘরে ফিরবে।
এখন দেশ গড়ার উত্তম সময়—এমন মন্তব্য করে আউয়াল বলেন, আমাদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, সেনা এবং জনতার সে সময় স্লোগান ছিল, "সেনা-জনতা এক, ষড়যন্ত্র রুখে দাও"। সেই সময় সেনা-জনতা যেমন এক হয়েছিল, সমগ্র বাংলাদেশ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় এক হয়েছিল। ৭৫-এর সেই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহানায়ককে উদ্ধার করেছিল। এবং বাংলাদেশের যদি বলা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের সেই প্রথম—পরবর্তী স্বাধীনতার পরবর্তী মুক্তি, সেই মুক্তি মিলেছিল এই ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দিন।
তিনি বলেন, শেখ মুজিব বাংলাদেশকে দেখিয়েছিলেন পাঁচ বছরের রাজনীতি, শেখ মুজিব বাংলাদেশকে দেখিয়েছিলেন প্রথম গুম-খুনের রাজনীতি। তার বিপরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় উপহার দিয়েছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন। আজকে জামায়াতে ইসলামী প্রত্যেকবার বক্তব্য শুরু করার আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শুরু করা উচিত। উনি ছাড়া কোনো দিন জামায়াত এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা রাজনীতিতে ফিরতে পারত না। শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানের কারণে ফিরেছে। তাছাড়া তাদের কোনো ফেরত দেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাংলাদেশের মানুষ তাদের অপকর্ম, শেখ মুজিব দেখিয়েছিলেন ট্রেলার আর শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। তাদের কোনো ঠিকানা, তাদের দোসরদের ঠিকানা বাংলাদেশের মাটিতে আর হবে না।
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখনো দেখতেছি অনেকের বাংলাদেশের স্বাধীনতা পছন্দ হয় না। আছে না অনেকের? যে আছে না অনেকে যাদের মন ভালো নেই, আজকে তাদের মন ভালো নেই। কারণ দেশ এগিয়ে গেলেই তাদের মন খারাপ হয়। আজকে যারা আপনি দেখবেন প্রত্যেকটা জায়গায় যারা মব করছে এবং বিরোধী দলে যারা আছে, আজকে তাদের বোনরাও তাদের কাছে নিরাপদ নয়। জামায়াতে ইসলামীতে দেখলাম তাদের একটা কমিটি আছে সেখানে কোনো নারীর কোনো নাম নেই। তো আমাদের নারী-বিবর্জিত সেই জামায়াত-এনসিপির ওপরও ভর করছে। অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের বাদ দিয়ে ভবিষ্যতে যদি তারা আগাতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন তাদের আগানোর সুযোগ দেবে না।





