সাজেকে ফের জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলি, সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৬ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে সাজেক পর্যটন সড়কে সোমবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাজেকের ঝুরঝুরি ছড়ার লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন ভোলার রূপসী দ্বীপ চর কুকরি-মুকরিতে

এর আগে শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙামুড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরপর এসব ঘটনায় ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস এবং প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে উভয় পক্ষই গোলাগুলিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় যুব দিবসে নিবন্ধন সনদ ও সম্মাননা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, তাঁদের কেউ এ ধরনের গোলাগুলিতে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, তাঁদের দলের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নন।

সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা জানান, ঝুরঝুরি ছড়া ও এর পাশের লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই সশস্ত্র দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ১১তম দিন ছিল রোববার। এদিন সকাল-সন্ধ্যা কর্মসূচি শিথিল করা হলেও খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ব্যানারে আরেকটি সংগঠনের ডাকা পাল্টা অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের প্রভাবে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল করলেও অন্যান্য যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। ফলে সাজেক পর্যটন সড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেনও জানান, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে কয়েকটি হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল করেনি।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

গোলাগুলির ঘটনা এবং অবরোধ কর্মসূচির কারণে সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।