সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা ক্রিকেটারদের

Any Akter
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:০৪ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের সিদ্ধান্তে এখনও অনড় রয়েছেন ক্রিকেটাররা।

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) আগেই নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে ক্রিকেট বয়কটের ডাক দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত বিসিবির এই পরিচালক পদত্যাগ না করায় নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।

আরও পড়ুন: ৩৩ রানে নেই ৪ উইকেট, বিপদে পড়ে চা খেতে গেল বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমরা মাঠে যাবো একটাই শর্তে—বিসিবি থেকে যদি অফিসিয়ালি কমিটমেন্ট আসে যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যক্তি বিসিবিতে থাকবেন না। যদি উনি থেকে যান, তাহলে খেলা বন্ধের দায় ক্রিকেটাররা নেবে না।’

মিঠুন আরও বলেন, এগুলো আমরা অসহায় হয়ে করতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা খেলার বিপক্ষে না। কিন্তু সবকিছুর একটা সীমা আছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে সবাইকে অপমান করা হয়েছে। প্রত্যেকটা সেক্টরকে উনি অপমান করেছেন। ক্রিকেটের প্রতি উনার কোনো সম্মান নেই। আমরা অবশ্যই খেলতে চাই, তবে আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: সাদমানের সেঞ্চুরির পরও ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ

উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিসিবির আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এম নাজমুল ইসলাম।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, সেই টাকা ফেরত চাইছি নাকি!

একই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা এত খরচ করছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? তাহলে তো আমরা প্রতিবারই বলতে পারি—তোমরা খেলতে পারোনি, এবার তোমাদের পেছনে যে খরচ হয়েছে, সেটা ফেরত দাও।

এই মন্তব্যকে ক্রিকেটারদের জন্য অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে কোয়াব। তাদের মতে, এসব বক্তব্য খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দেয় এবং দেশের ক্রিকেটের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন।