জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা আফগানিস্তানের
ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে আগেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৩৫তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আফগানরা।
ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তবে আফগান বোলারদের তোপে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে দলটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার পথ কঠিন হয়ে যায় তাদের।
আরও পড়ুন: ২০২৮ সালে প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন রাজা ও রায়ান বার্ল। রাজা করেন ৬৮ রান, আর বার্লের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। দুজনের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত আফগান বোলারদের সামনে বেশি দূর এগোতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
আফগান বোলারদের তোপে চাপে জিম্বাবুয়ে
আরও পড়ুন: রেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়
ফজলহক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর বিলাল সামি অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলরকে ফিরিয়ে দিলে ৫৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে দলটি।
রাজা ও বার্লের ৬০ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখিয়েছিল। তবে ২৭তম ওভারে মোহাম্মদ নবীর বলে বার্ল ক্যাচ দিলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর দ্রুত গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান ৪১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। বিলাল সামি ২৭ রানে দুটি, ফারুকি ৪১ রানে দুটি এবং নবী ২৫ রানে দুটি উইকেট শিকার করেন।
জাদরানের অপরাজিত ৭০ রানে শিরোপা জয়
জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। গুরবাজ দশম ওভারে আউট হওয়ার আগে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৮ রান।
মাঝের ওভারগুলোতে জিম্বাবুয়ের বোলাররা রান তোলার গতি কমিয়ে আনেন। ১১ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে আফগানিস্তান যোগ করে মাত্র ৩০ রান। এ সময় সেদিকউল্লাহ আতালও ফিরে যান মাত্র ৬ রান করে।
তবে লক্ষ্য নাগালের মধ্যে থাকায় অতিরিক্ত ঝুঁকি নেননি আফগান ব্যাটাররা। অধিনায়ক রহমত শাহ ও জাদরান ধীরে ধীরে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। ২৭তম ওভারে সিকান্দার রাজাকে দুটি বাউন্ডারি মেরে রানের গতি বাড়ান তাঁরা।
রহমত শাহ ৪৩ রান করে ওয়েসলি মাধেভেরের বলে আউট হলেও জয় পেতে আর সমস্যা হয়নি আফগানিস্তানের। জাদরান ৭০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে শিরোপা এনে দেন।
বাংলাদেশকে হারিয়েই ফাইনালে আফগানিস্তান
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই ম্যাচে ক্রেইগ আরভিন ৯৩ এবং ব্রেন্ডন টেলর ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
তবে পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। তারা জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে এবং বাংলাদেশকে সাত উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ওই দুই ম্যাচে রশিদ খান একাই শিকার করেন আট উইকেট।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হলেও জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। দুই দল এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং এরপর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে। সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা শারজায়।





