৬ মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা, ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনিকে (৩৫) প্রকাশ্যে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১৩

নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, আটক ৩

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। এ নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার গালাগাল ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এরপর কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, নিহত মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, ‘আমরা আমাদের অফিসে নির্বাচনী বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। মিজান সেখানে এসে কথাকাটাকাটিতে জড়ায়। পরে সে চলে যায়। পরে শুনি তাকে কে বা কারা হত্যা করে রাস্তায় ফেলে গেছে। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, ‘গণপিটুনিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।