দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:০০ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবনকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এই দুটি চিকিৎসা যন্ত্র ব্যবহার উপযোগী করে বাজারজাত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার বঙ্গভবনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

সভায় জানানো হয়, দুটি চিকিৎসা যন্ত্র আলাদা দুটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে এগুলো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যসেবা আরও সাশ্রয়ী করতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটরটি গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম। এ কারণে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক

অন্যদিকে হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী। যন্ত্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা, দুর্যোগ পরিস্থিতি কিংবা রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সভায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুটি চিকিৎসা যন্ত্র সফলভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।