পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স সরানোর অভিযোগ, পরে উদ্ধার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৮ পূর্বাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স সরিয়ে নেওয়ার একটি ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাক্সটি উদ্ধার করে পুনরায় কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনে। ঘটনার সময় উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আরডিএ সূত্রে জানা যায়, পুরোনো বিলবোর্ড, পার্কের গাছ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিলামের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত তা চলার কথা ছিল।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন বিশেষ দূত, শুনলেন শরণার্থীদের সংকট ও প্রত্যাবাসনের দাবি

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলাকালে কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে সকাল থেকেই নিলাম প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার সময় কিছু ব্যক্তি আগেই জমা দেওয়া দরপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তা পৃথকভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্সটি সরিয়ে নেন এবং পরে সেটি খুলে কিছু নথি যাচাই করেন বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: ফেনীর সংঘর্ষ মামলায় রাজধানী থেকে গ্রেফতার বিএনপি নেতা আলমগীর

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো বাধা দেননি। পরে কিছু সময়ের মধ্যে পুলিশ বাক্সটি উদ্ধার করে পুনরায় আরডিএ কার্যালয়ে নিয়ে আসে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দরদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে টেন্ডার বাক্স খুলে দরপত্র গণনা সম্পন্ন করা হয়। এতে চারটি গ্রুপের মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪৫০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল।

এ বিষয়ে নগর যুবদলের আহ্বায়ক বলেন, ঘটনাটিতে তাদের সংগঠনের কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, “পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সেটি উদ্ধার করে দরপত্র গণনা সম্পন্ন করা হয়েছে। অফিসের বাইরে কারও টেন্ডার বাক্স খোলার এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি প্রথমে ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে বাক্সটি ফেরত দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা আরডিএ নেবে, প্রয়োজনে পুলিশও নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতে পারে।