সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাত দিনের লড়াই শেষে শিশু রেশমির মৃত্যু

Sanchoy Biswas
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩২ অপরাহ্ন, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিরীহ এক শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্য এবং অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুলিটি রেশমির বাঁ চোখ দিয়ে মাথার ভেতরে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক ছেদ করে পেছনের অংশে আটকে ছিল। জটিল অবস্থার কারণে অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। গুলিটি মাথার গভীরে আটকে থাকায় তা অপসারণ করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ছিল। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে রাতে বায়েজিদ বোস্তামীর রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনিতে প্রতিপক্ষকে হত্যার উদ্দেশ্যে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিলেন রাউজানের বাসিন্দা হাসান রাজু (২৪)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচ থেকে ছয়জন অস্ত্রধারী যুবক গুলি ছুড়তে ছুড়তে রাজুকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে কাছ থেকে মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

এ সময় আশপাশে থাকা শিশু রেশমিও গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রথমে নিউরোসার্জারি বিভাগে নেওয়া হলেও পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করায় অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বোর্ড অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং জনবহুল এলাকায় নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। একটি সন্ত্রাসী হামলার বলি হয়ে নিরীহ শিশুর মৃত্যুতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আইনজীবী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসবিরোধী ও অস্ত্র আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদারের দাবি উঠেছে।