হঠাৎ বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য, জুয়া প্রতিরোধ আইনে গ্রেফতার

Sanchoy Biswas
মো. গোলাম কিবরিয়া, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৭ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আশরাফুল ইসলাম মামুন (৩৮) নামে এক যুবক গ্রেফতার হয়েছেন। জুয়া প্রতিরোধ আইনে গ্রেফতার হওয়া ওই যুবক হঠাৎ বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জুয়াড়ি মামুন সদর উপজেলার চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের দিগলাপাড়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আব্দুল খালেকের ছেলে।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

রোববার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান এই জুয়াড়ি গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, আশরাফুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি জুয়া প্রতিরোধ আইনে ময়মনসিংহে দায়ের হওয়া প্রথম মামলা। এ ঘটনায় সিআইডির প্রতিবেদন হাতে পেলে মানি লন্ডারিং আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হবে।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

ডিবি পুলিশ জানায়, ২ জুলাই রাতে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মাছ বাজার এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গোয়েন্দা পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শম্ভুগঞ্জ মাছ বাজার এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের সময় পালানোর চেষ্টাকালে আশরাফুল ইসলাম মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি রেডমি নোট ১২ প্রো মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল ঘেঁটে অনলাইন জুয়ার ৯৩টি স্ক্রিনশট, ওয়ান এক্সবেট (1xBet), মেলবেট (Melbet)-সহ একাধিক অনলাইন বেটিং অ্যাপ এবং অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে আশরাফুল ইসলাম মামুন গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী জানায়, মামুন দুই বছর আগে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ল্যাংড়া বাজারে মোবাইল রিচার্জের দোকান দেন। এরপর থেকে নিয়মিত তার দোকানে অপরিচিত তরুণদের ভিড় লেগেই থাকত। এভাবেই মাত্র দুই থেকে তিন বছরের ব্যবধানে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিত্তবৈভবের উত্থান ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মামুন দুই বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন। তিনি ১৬ শতাংশ জমিতে বিশাল বাউন্ডারি দিয়ে তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, ১৮ শতাংশ জমিতে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। ওই খামারে রয়েছে ৫০টি ষাঁড় গরু। এছাড়া ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিজের নিরাপত্তার জন্য খামারের চেম্বারে উন্নতমানের বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্র রাখতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বলেন, অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ত মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।