ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় চলছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

Sanchoy Biswas
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪২ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পালিত হওয়া হরতালের প্রভাবে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

আরও পড়ুন: আল্লামা বাবুনগরীর নেতৃত্বে ৭ ইসলামী দলের ঐক্যবদ্ধ কর্মকাণ্ডের ঘোষণা

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।

হরতালের কারণে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি পেলাগাজী দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চাপাতিসহ তিন ভাড়াটে কিলার আটক, খুনের চুক্তি হয় কাশিমপুর কারাগারে

চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা একটি কোম্পানির প্রতিনিধি মোহাম্মদ কবির বলেন, “আমরা কোম্পানির কাজে হেয়াঁকো যেতে চেয়েছিলাম। মাঝপথ থেকে হরতালের কারণে ফিরে যেতে হচ্ছে।”

এদিকে বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আন্দোলনকারীরা বলেন, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা আন্দোলন করছেন। ফটিকছড়ির ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করা উচিত। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তাঁরা বলেন, ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বার্থে সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে সব এলাকার মানুষ সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আযাদ বলেন, উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলেই স্থাপন করতে হবে। দাবির অংশ হিসেবে আজকের হরতাল কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে ভূজপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছে।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। ৮ জুলাইয়ের গেজেটের মাধ্যমে ৬টি ইউনিয়ন (বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল) নিয়ে নতুন এই উপজেলা গঠিত হয়।

৫০১তম উপজেলা হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে ভূজপুর ইউনিয়নে। বর্তমান ফটিকছড়ির ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজও শুরু হয়েছে। ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে এর আগে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও ছাত্র বিক্ষোভের পর এবার হরতালের মতো কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।