চিলমারীতে ভুক্তভোগীকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ

Sanchoy Biswas
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৯ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অভিযোগ তুলে নেওয়ার প্রলোভনে এক ভুক্তভোগীকে অজ্ঞাত স্থানে ডেকে নিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ধারণ করা ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী হুমায়ুন কবিরকে থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা মৌজায় চলমান একটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুই সংবাদকর্মী এস এম রাফি ও ফয়সাল আহম্মেদ রকি এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা টাকা না দিলে প্রকল্পের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে হুমায়ুন কবির সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ৩০ হাজার টাকা নগদ দিতে বাধ্য হন। পরবর্তী সময়ে টাকা নেওয়ার পরও সংবাদ প্রকাশ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রেসক্লাব চিলমারীর কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে একটি হোটেলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তার বক্তব্যের অডিও রেকর্ডের একটি অংশ প্রকাশ করে হুমকির বিষয়টি সামনে এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে অডিওটির সম্পূর্ণ অংশ প্রকাশ না করায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

অন্যদিকে, পরবর্তী সময়ে হুমায়ুন কবিরকে কুড়িগ্রামের একটি অজ্ঞাত স্থানে ডেকে নিয়ে চাকরির ভয় দেখিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা এবং গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডি থেকে প্রচার করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডের পূর্ণাঙ্গ অংশ প্রকাশ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের কেউ কেউ।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে চিলমারীতে কয়েকজন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিং ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত সংবাদকর্মীদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার জানান, প্রথম অংশের অডিও দিয়ে একটি জিডি করা হয়েছে। পরবর্তী অংশের অডিও পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।